পাইলস নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি !

piles-treatment-img

পাইলস নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি !

পাইলস একটি মলদ্বার তথা পায়ুপথের রোগ যা ইদানিং কালে শহরে গ্রামে সর্বক্ষেত্রে সকল ধরনের শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে ভোগান্তির সৃষ্টি করছে। আজকে পাইলস কেন হয়, কোথায় হয়, কখন হতে পারে, কিভাবে হতে পারে, পাইলসের ধরন কেমন, কিভাবে বুঝবেন আপনি পাইলসে আক্রান্ত ? এসব বিষয়ে ক্লিয়ার করব। আমাদের জিহ্বা হতে শুরু করে পায়ুপথের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সুদীর্ঘ এলিমেন্টারি ক্যানেল তথা পরিপাক প্রণালী রয়েছে তার একেবারে শেষ প্রান্ত ঘেঁষে এই রোগের উৎপত্তি। এক কথায় বলতে গেলে নিম্ন দিকে পায়ুপথের মুখ থেকে উপরের দিকে রেক্টাম তথা মল ভান্ডার পর্যন্ত এই ৫/৭ সেন্টিমিটারের মধ্যে পাইলসের উৎপত্তি বা জন্মস্থান। আমরা সচরাচর জানি পায়ুপথের মাংসপেশির দেয়ালে তিনটি কুশন তথা রক্তনালীর প্রান্ত রয়েছে। এই রক্তনালীর প্রান্ত বা কুশনের বৃদ্ধিকেই অর্শ, হেমোরয়ড বা পাইলস নামে অভিহিত করা হয়। এক কথায় বলতে গেলে মলদ্বারের ভিতরে অথবা বাহিরের শিরাস্ফীতিকে পাইলস বা অর্শ ইংরেজিতে হেমোরয়ড বলা হয় । এই পাইলস বা অর্শ রোগ একাধিক নানা কারণে হতে পারে, তবে বিশেষ করে যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা থাকে বা প্রায় পায়খানা কষা ভাব থাকে তাদের ক্ষেত্রেই এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ৫০% বেশি। এছাড়া বংশগত কারণ বা জেনেটিক ফ্যাক্ট, হজম জনিত সমস্যা তথা আইবিএস-আইবিডি, অনিদ্রা, অতিরিক্ত ভার উত্তোলন, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা জব বা টেবিল ওয়ার্ক করা, প্রসেস ফুড খাওয়া ইত্যাদি কারণে পাইলস হওয়া ত্বরান্বিত হয়। অনেকে মনে করেন একবার যদি পাইলস হয় তাহলে আজীবন ভুগতে হবে, এই ধারণাটি একেবারে ভুল ধারণা। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে এবং জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন করলে পাইলস রোগ স্থায়ীভাবে আরোগ্য করা সম্ভব। সমাজে পাইলস নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি, অপপ্রচার, অপ চিকিৎসা, ভুল চিকিৎসা, চিকিৎসার ব্যাপারে আগ্রহীনতা, খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম, কায়িক শ্রম না করা, পর্যাপ্ত ঘুম না যাওয়া_ এই সমস্ত কারণগুলির পাইলসের জন্য অনেকাংশে দায়ী। একটু সচেতন ভাবে জীবন যাপন করলেই পাইলস হতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব । অনেকে পায়ুপথে সামান্য রক্তস্রাব দেখলেই বা ব্যথা ফোলা হলেই পাইলস ভেবে ভয় পেয়ে যান যা মোটেও কাম্য নয়। ইদানিংকালে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারে মানুষ বিভ্রান্তির শিকার হন, অপ চিকিৎসা নেন যা পাইলসের রোগীকে আরো জটিলতার দিকে ধাবিত করে। এ ক্ষেত্রে রোগী হিসেবে আপনারা যখন মনে করবেন আপনাদের পায়ুপথে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, ব্যাথা হচ্ছে, জ্বালা হচ্ছে, ফুলে গেছে তাহলে আপনার আশেপাশে যেকোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। এতে প্রাথমিক পর্যায়ে আপনি পায়ুপথের রোগ তথা পাইলসের জটিলতা থেকে রক্ষা পাবেন